শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬ - ২০:৪৮
‘আমেরিকান শত্রুর জন্য ইরানি জাতির কাছে এমন শিক্ষা রয়েছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না’: সর্বোচ্চ নেতা

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা ভঙ্গের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তিনি শত্রুদের সতর্ক করে বলেেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আরও যুদ্ধ উসকে দিতে চায়, তাহলে ইরানের জনগণ ও প্রতিরোধ অক্ষ তাদের এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামী বিপ্লবের ‘শহীদ নেতা’ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে বিদায় জানানোর ঐতিহাসিক ও বিশাল সমাবেশের প্রেক্ষাপট এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি নিয়ে আজ (শনিবার) এক বিশেষ বার্তায় বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ী এসব কথা বলেন।

বার্তার পাঠ্য নিম্নরূপ—

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে মহান ও বিস্ময়সৃষ্টিকারী ইরানের জাতি!

আপনাদের প্রতি আমার সালাম, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। ইরানের শহীদের বিদায় অনুষ্ঠানে আপনাদের অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক উপস্থিতি ইসলামী-ইরানি পরিচয়, কৃতজ্ঞতা, আনুগত্য, দূরদর্শিতা এবং ইসলামী উম্মাহর নেতা ও বিপ্লবের শহীদ নেতার প্রতি গভীর ভালোবাসার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তেহরান, কোম, মাশহাদ এবং দেশের অন্যান্য শহর ও গ্রামে কোটি কোটি মানুষের অশ্রুসজল চোখ, উষ্ণ হৃদয় এবং অটল সংকল্প বিশ্ববাসীর সামনে ইরানি জাতির শক্তি ও ঐক্যের অনন্য প্রকাশ ঘটিয়েছে। এটি যেমন ইরানের বন্ধু ও বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি ইরানি জাতির উদ্ধত শত্রুদের বিস্মিত, ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত করেছে।

এই জাতীয় মহাকাব্যের পাশাপাশি, তথাকথিত ‘মহাশয়তান’-এর পক্ষ থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা বারবার লঙ্ঘনের ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। জোরজবরদস্তি, আধিপত্যবাদ এবং বর্বরতা—এসবই মার্কিন নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজ তারা আবারও তাদের মুখোশহীন চেহারা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেছে, যা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অসত্য, অযৌক্তিকতা এবং অবিশ্বস্ততার আরেকটি স্পষ্ট প্রমাণ।

আজ যখন আমেরিকান শত্রু আরও যুদ্ধ উসকে দিতে এবং আরও বড় মূল্য চুকাতে প্রস্তুত, তখন তাদের জানা উচিত—ইরানের মহান জাতি এবং প্রতিরোধের ফ্রন্ট তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত করে রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসলামের যোদ্ধাদের বীরত্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলের সাহসী মানুষের আত্মত্যাগ তারই কিছু নমুনা।

এই সংবেদনশীল সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—জনগণ ও রাষ্ট্রের সব স্তরে ঐক্য, সংহতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা। ইসলামী বিপ্লবের মহান আদর্শ বাস্তবায়ন এবং প্রিয় ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য, বিশেষত অপরাধী ও ষড়যন্ত্রকারী আমেরিকান শত্রুর মোকাবিলায়, এই ঐক্য অপরিহার্য।

আগেও যেমন বহুবার জোর দিয়ে বলা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য রক্ষা, বিভেদ ও সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা সামাজিক বিভাজনকে উসকে না দেওয়া সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং বিপ্লব, ইমাম ও শহীদ নেতার প্রতি নিবেদিত ব্যক্তিদের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল।

আমি বিশ্বাস করি, দেশের তিনটি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি জনগণের আস্থা অব্যাহত থাকবে এবং ইসলামী ইরানের স্বার্থ সংরক্ষণে জাতি সর্বদা সচেতন ও সক্রিয় থাকবে।

নিঃসন্দেহে কেউ কেউ আন্তরিকতা ও শুভকামনা থেকে কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারেন। এ ধরনের উদ্বেগ নিজেই একটি মূল্যবান সম্পদ। তবে সমালোচনা এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে কোনো নিরপরাধ মানুষের প্রতি অবিচার হয় বা জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সীমারেখা রক্ষা করা গেলে সমালোচনা সমাজের অগ্রগতি ও বিকাশের পথ সুগম করবে।

শত্রু যেন আমাদের মধ্যে কোনো দুর্বলতার চিহ্ন খুঁজে না পায়। আমরা যদি সতর্কতা ও সংহতি বজায় রাখতে পারি, তাহলে শেষ পর্যন্ত শত্রুই পিছু হটতে বাধ্য হবে।

আরও একবার, আমি ইরানের প্রিয় জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আপনারা ইরানের শহীদের বিদায় অনুষ্ঠানে যে ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও সংহতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

একই সঙ্গে সম্মানিত মারজায়ে তাকলিদ, আলেম-ওলামা, চিন্তাবিদ, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের সক্রিয় ব্যক্তিবর্গ, দেশের বেসামরিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং গৌরবময় প্রতিরোধ ফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আমি আশা করি, এই ঐতিহাসিক ঘটনায় যারা যেকোনোভাবে অংশগ্রহণ, সহযোগিতা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন, তারা সবাই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ এবং ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর দোয়ার অন্তর্ভুক্ত হবেন।

সাইয়্যেদ মুজতবা হুসাইনি খামেনেয়ী
২৬ তীর, ১৪০৫ | ১৮ জুলাই, ২০২৬

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha